জেলা প্রতিনিধি : কথায়
আছে কপালের লিখন না যায় খন্ডন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস নেপালের মানসিক ভারসাম্যহীন
যুবক শিবরাম(২২) নওগাঁর সাপাহারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্নক আহত হয়ে সাপাহার
হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বিপদই যেন তাকে নেপাল থেকে সাপাহারে নিয়ে
এসেছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ভাষা কেউ বুঝতে পারেনা। এছাড়া অনেক চেষ্টা করেও
তাকে কোন কথা বলা যাচ্ছেনা। হাসপাতালের শ্যামসুরতি একজন নামের সুইপার মেয়ে জানান
যে অনেক চেষ্টা করে তার কাছ থেকে তার নাম পিতার নাম ও দেশের নাম জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় তার দু পা ই ভেঙ্গে গেছে। হাসাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রয়া কাতর
ওই পাগলের বাঁধ ভাঙ্গা কান্নায় অন্যান্য রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেনা। হাসপাতালের
ডাক্তারগন জানান, জীবন বাঁচাতে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্তত তাকে রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো দরকার।
কিন্তু কেউ তার চিকিৎসার দায়ভার না নেয়ায় অনেকটা
বিনা চিকিৎসায় সে সাপাহার হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে রয়েছে। তার পরেও এখানকার
ডাক্তারগন তাদের সাধ্যানুযায়ী ঔষধপত্র সরবরাহ করে চলেছেন। সাপাহার হাসপাতাল সুত্রে
জানা গেছে, গত ১ জুন সকাল ৯টায় সাপাহার সদরের পার্শ্ববর্তী দিবর গ্রামের কতিপয় লোক
মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে সাপাহার হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার দু পায়ের উপর দিয়ে
ভারি কোন যানবাহন যাওয়ায়, হাটুর নিচ থেকে দু’পা সম্পুর্ন থেঁতলে যায়। তার দু পায়ে
শতাধিক সেলায় দেয়া হয়েছে। শিবরাম মানসিক ভারসাম্যহীন ও হিন্দি ভাষি হওয়ায় সে ঠিক
কি কারনে নেপাল থেকে সাপাহারে এসেছিল তা কারো পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। তবে মারাত্নক
আহত মানসিক ভারসাম্যহীন হতভাগ্য সল্প ভাষি শিবরামের কথা শুনে, হিন্দি ভাষা বোঝে
এমন লোকদের ধারনা সে নেপালের পাটশা জেলার বোখারিয়া থানার বিশরামপুর গ্রামের
বিপিনের পুত্র বলে তার দেয়া কথা অনুযায়ী ধারনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সাপাহার
থানায় একটি সাধারন ডায়েরি হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ ওসি নুর ইসলাম হাসপাতালে এসে ওই
যুবককে দেখে গেছেন। তার শরীর হতে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে বলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ
জানিয়েছেন। এখন কেউ তার উন্নত চিকিৎসায়
এগিয়ে না এলে হয়ত বিনা চিকিৎসায় তাকে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে। মানুষ
মানুষের জন্য সমাজের কোন বিত্তবান হৃদয়বান ব্যক্তি মানসিক ভারসম্যহীন এই যুবকের
চিকিৎসায় এগিয়ে আসার জন্য পাগল ওই যুবকের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
+03.05.2014.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন