জেলা প্রতিনিধি: শুক্রবার সকালে বজ্রপাতে নওগাঁর মহাদেবপুরে ৫ জন এবং পোরশায় ১ জনসহ মোট ৬ জন নিহত ও অপর ৩২ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী রামপ্রসাদ ভদ্র জানান, শুক্রবার ছিল ভীমপুর ইউনিয়ন সদর স্বরসতিপুর বাজারের হাটবার। আগের রাত থেকে চলছিল মুষলধারে বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোর থেকেই ধানহাটিতে দূর দূরান্ত থেকে হাটুরেরা ধান বিক্রির জন্য এখানে এসে ভীর জমান। সকাল সাড়ে ৬ টায় ধানহাটিতে অবস্থিত কয়েকটি আমগাছের উপর প্রচন্ড শব্দে বজ্রপাত হয়। মূহুর্তে বজ্রের আগুনের ঝলকানিতে অসংখ্য মানুষ আহত হন। হাটুরেরা আতংকে দিক বিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন। আগুনে ঝলসে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৫ জন। এরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের ভেবরি গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আফজাল হোসেন (৫৫), দাশরা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ইয়াকুব আলী (২২), চেরাগপুর ইউনিয়নের চৌমাসিয়া গ্রামের ফারাজ উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল হক (৪০), উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে সামছুল আলম (৪০) ও নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের ফারাদপুর গ্রামের বাচ্চু হোসেনের ছেলে আজিজার রহমান (৪০)। এরা সকলেই হাটে ধান বিক্রি করতে হাটে গিয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে ৩২ জনকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তারা হলেন, ভীমপুর ইউনিয়নের স্বরসতিপুর বাজারের কৃষ্ণ চন্দ্রের ছেলে কালিদাস চন্দ্র (৪৫), মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) ও আদিবাসী কারিয়ার স্ত্রী পূর্ণিমা (৪০), চকরাজা গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে ইয়াকুব আলী (৩০), আববাস আলীর ছেলে মঞ্জু (৩৫), দাশরা গ্রামের মোজাম্মেল হকের ২ ছেলে লিটন (১৫) ও ফারুক (২৫), শ্যামপুর গ্রামের কালিদাসের ছেলে পলক (৯), চেরাগপুর ইউনিয়ন সদরের জালাল হোসেনের ছেলে ইয়াকুব আলী (৩৮), পদ্মপুকুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এজাজুল হক (৩০), স্বরুপপুর গ্রামের কালু পাহানের ছেলে প্রদীপ পাহান (৩০), উত্তর আন্ধারকোটা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে চয়েন উদ্দিন (৪৫) ও মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৫), আন্ধারকোটা গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে জিল্লুর রহমান (৩০), কুরমইল গ্রামের মৃত সাহের আলী মন্ডলের তিন ছেলে মোশাররফ হোসেন (৬০), তজিমুদ্দিন (৫০) ও তছিমুদ্দিন (৩৫), কাশিবাড়ী কৃষ্ণপুর গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে খাজামুদ্দিন (৫০), মৃত মখর আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৮), মাটিয়াদীঘি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফেরদৌস (৩৫), মনোহরপুর গ্রামের মাখন চন্দ্রের ছেলে প্রদীপ চন্দ্র (৪৫), নাজির উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৮), শ্রী মৃণাল চন্দ্রের ছেলে মিলন চন্দ্র (৫০), মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে কায়েব উদ্দিন (৭০), ভবানীপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে বেলাল হোসেন (২২), জিয়াতুল্লার ছেলে আব্দুস ছাত্তার (৬০), উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন সদরের আব্দুস ছালামের ছেলে রাসেল (১৭), ইসা মন্ডলের ছেলে আলেফ উদ্দিন (৩৫), আব্দুল জববারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) ও খাজুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে তাসেম উদ্দিন (৫৫)। আহতদের মধ্যে আব্দুস সামাদ, বেলাল, তাসেম ও পূর্ণিমার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদেরকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এছাড়া শুক্রবার ভোরে নওগাঁর পোরশায় বজ্রপাতে এক গৃহবধূও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের পাথরডাঙ্গা গ্রামের নূর মোহাম্মদের স্ত্রী সাবিনা বেগম (৩৫) ভোর ৬ টার দিকে ঝরের সময় বাড়ীর পার্শ্ববর্তী আম বাগানে আম কুড়াতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালে জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার আলহাজ্ব আকতার হামিদ সিদ্দিকী, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম, মহাদেবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো: এনামুল হক মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আহতদের দেখতে যান ও তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। জেলা প্রশাসক তার জরুরী তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারের মধ্যে প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য মধ্যে প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেন। এছাড়া এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৫ হাজার টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেন। বাদ জুম্মা নিহতদের নামাজে জানজা শেষে দাফন করা হয়। #

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন