নওগাঁ জেলা সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশকারী মানসিক ভারসম্যহীন
নেপালী নাগরিক শিবরাম দির্ঘ কুড়ি (২৫)দিন যাবত সাপাহার হাসপাতালে ভর্তি থাকলে ও
তার উন্নত চিকিৎসা সহ সরকারী বা বে-সরকারী
ভাবে কোন আইনি ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। জানা গেছে, গত ১জুন রাসত্মায় দুর্ঘটনায় দুই পা থেঁতলানো অবস্থায় মানসিক ভারসম্যহীন এই
যুবককে স্থানীয় কিছু লোক সাপাহার হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। পরবর্তিতে জানা যায়
উক্ত যুবক শিবরাম(২২) নেপালের নাগরিক। মারাত্নক আহত যুবকটিকে সাপাহার হাসপাতালের
চিকিৎসকগন প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর দ্রম্নত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
স্থামত্মামত্মরের চেষ্টা চালালেও তার কোন লোক না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়
হাসপাতালের সামর্থ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে শিবরামকে কোনমত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছে
এখানকার চিকিৎসাকগন। শুরম্ন থেকে অন্য ভর্তী রোগীর আত্মিয় এক মহিলা শিবরামের
দেখাশুনা করলেও সম্প্রতী তারা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে যাওয়ায় শিবরামের
দেখাশুনা করার লোকের অভাব দেখা দিয়েছে। উক্ত নেপালী যুবক শিবরামকে নিয়ে গত ৩জুন বেশ
কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা সহ অন লাইন পত্রিকায় এক রিপোর্ট প্রকাশ হলে বাংলাদেশেস্থ
নেপাল দূতাবাস ও মানবাধিকার সংস্থা লাইট হাউস থেকে উক্ত শিবরামের খোঁজ খবর নিতে
থাকে, কিন্তু রহস্যজনক কারনে পরবর্তিতে তারা থেমে যায়। সাপাহার থানা পুলিশ, উপজেলা
প্রশাসন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে যেমন তার উন্নত
চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয়নি তেমনি অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশকারী ভিনদেশী নাগরিক শিবরাম
কে আটকের ও কোন উদ্দ্যোগ নেয়নি সাপাহার থানা পুলিশ। বর্তমানে মানসিক ভারসম্যহীন এই
যুবক সাপাহার হাসপাতাল বেডে শুয়ে শুয়ে মানবেতর জীবন করছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন অবৈধ
ভাবে অনুপ্রবেশকারী ভিনদেশী নাগরিক শিবরাম পুলিশের চোখের সামনে আর কতদিন হাসপাতালে
ভর্তি থাকবেন? এ ব্যাপারে সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর ইসলামের সাথে
আলাপ করলে তিনি জানান, আইনি জটিলতার কারণেই তাকে আটক বা গ্রেফতার করা হচ্ছেনা সে
যে অন্য দেশের নাগরিক এমন কোন তথ্য বা প্রমান ও পাওয়া যাচ্ছেনা তবে অসহায় মানুষের
সেবা করা উচিত তাই তার সেবা করতে হবে। এজন্য তিনি গতকাল সোমবার তার সেবায় কোন মতে
চলা ফেরার জন্য দু’টি ক্রেস কিনে দেন। মানসিক ভারসম্যহীন এই যুবকের বিষয়ে
হাসপাতালে কর্তব্যরত সুইপার শ্যামসুরতী এর সাথে আবারো কথা হলে তিনি জানান যে, পাগল
ওই যুবককে এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে কোন কোন সময় নেপালী ও ভারতের ভজপুরী
ভাষায় গান করতে দেখা যাচ্ছে। তবে তার কাছে গিয়ে তার নাম ও দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাবাদ
করলে সে কোন কথা বলছেনা সারাক্ষন চুপ
থাকছে। যুবকটি মাঝে মধ্যে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাসপাতাল হতে বেরিয়ে যাচ্ছে। লোকজনের
ধারনা সে হয়ত আবারও কোন দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। সে যে দেশেরই লোক হোক না কেন
তার সঠিক চিকিৎসা ও সঠিক খোঁজ খবর নেয়ার জন্য এলাকাবাসী সরকারের সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ্যর দৃষ্টি কামনা করেছেন।
২৩জুন/২০১৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন