নওগাঁ জেলা সংবাদদাতাঃ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ভুতুর প্রতারনা চিকিৎসার সংবাদ
প্রকাশের পর প্রশাসন কিছুটা ততপর হলে কিছু সময়ের জন্য প্রতারনার চিকিৎসা বন্ধ হয়। বর্তমানে
বহাল তবিয়তে সে চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর ব্যবসা প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ
লক্ষ টাকা,প্রতিদিনের আয় সর্ব নিম্ন ১০-১৫ হাজার টাকা। কবিরাজ নিজেই এক মানষিক
রোগী, নাম তার রেজাউল করিম। বয়স ৫০ থেকে ৫৫ বছর। তিনি কোন দিন স্কুলের বারান্দাই পড়ার
জন্য যান নি, তবু তিনি চিকিৎসক হিসাবে নিজের প্যাডে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন।
কিন্তু এতে কী লেখেন, কোন ভাষায় লেখেন কেউ বোঝে না। এমনকি তিনি নিজেও না। স্থানীয়
লোকজন আগে তাঁর এই চিকিৎসা‘য় বিশ্বাস করলেও এখন করেনা। তবে দূর-দূরান্তের মানুষ
এখনো তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসে। কথিত এই কবিরাজের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার
তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর (ঝাঝর) গ্রামে। ১২-১৪ বছর ধরে তিনি এই অভ্দুত চিকিৎসা
দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কেশবপুর গ্রামে রাজশাহী-নওগাঁ
মহাসড়কের পাশেই ‘কবিরাজ রেজাউলের বিশাল অট্টালিকা সাদ ঢালাই পাকা বাড়ি। সেখানেই
তার চিকিৎসালয়’। বাড়ির দেওয়ালে লেখা আল্লাহ সর্বশক্তিমান। এখানে গননা করা হয় না।
এখানে টাকা দিয়ে সিরিয়াল দেওয়া হয় না।
ঘরের বাইরে অনেক লোকজন চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছে। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়, রেজাউল শুরুতেই রোগীর হাতে একটি হাড় ধরিয়ে দেন। এই হাড় ধরা অবস্থায় তিনি
রোগীর সমস্যা বুঝে ফেলেন। রোগীদেরকে মুখে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে নিজে জিনের
আছর করা মানষেুর ন্যায় অঙ্গ ভুঙ্গির মাধ্যমে সামনে বসা রোগীকে ভীতিকর অবস্থায় ফেলেদেয়।
তখন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কোন বিষয়ে জানার আগ্রহ চরম ভাবে হারিয়ে ফেল।
কবিরাজ ভুতু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাশে বসে থাকা তাঁর সহোযোগী শিক্ষিত
ব্যাক্তিটিকে তাঁর অবাঞ্চিত আচড়ানো ব্যাবস্থাপত্রটি হাতে ধরিয়ে দেন। কবিরাজ যা
বলেছেন তাঁর ভিত্তিতে ঐ ব্যাক্তি ওষুধ নিধানর ও টকা নিয়ে ওষুধ দিয়ে থাকেন।
ব্যাবস্থাপত্রটি পুরোটাই লোক দেখানো এবং এটি জিনের লেখা বলে অশিক্ষিত মুর্খ বোকা
লোকদের মাধ্যমে জিনের কল্প কাহিনী বলে প্রচার ঘটানোর একটি প্রক্রিয়া বলে এলাকা
বাসি ও সচেতন বিজ্ঞ মহল মনে করছেন। ওষুধ বলতে আয়ুর্বেদিক তরল ওষুধ, মদক,ও বিভিন্ন
কোম্পানির ট্যবলেট,ক্যাপসোল, সিরাপ। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ছবি তুলতে চাইলে ও কথা
বলতে চাইলে রেজাউল করিম এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি নিরক্ষর। তবে ২০০৯ সালে ‘‘ এল,এম,এ,এফপি
খুলনা ট্রেনিং সেন্টার"থেকে
প্রশিক্ষন নিয়েছি। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের একটি সনদপত্রও দেখান। লেখাপড়া না করে কী ভাবে
প্রশিক্ষন নিলেন,জানতে চাইলে রেজাউল বলেন মৌখিক প্রশিক্ষন নিয়েছি। রেজাউল করিম
জানান, তিনি ওষুধ তৈরি করতে পারেন। কিন্তু অনুমতিপত্র ( লাইসেন্স) না থাকায়
বাজেরের ওষুধ ব্যবহার করেন। তাঁর দাবি,ওষুধ বিক্রি করে যে লাভ হয়, তা তিনি নেন না।
সেই টাকা দিয়ে একটি মক্তব চালান। আর সংসার চালান পৈত্রিক জমির আয় দিয়ে।
ব্যবস্থাপত্র কোন ভাষায় লেখেন, জানতে চাইলে কবিরাজ রেজাউল বলেন, তা আমি নিজেও জানি
না। তাহলে কি লিখেছেন আর তা কেই বা বুঝবেন ? জবাবে তিনি বলেন, সঙ্গে আরও একজন আছেন,
তিনিই লেখেন, তিনিই বোঝেন। তিনি কে জানতে চাইলে রেজাউল অলেীকিক শক্তির প্রতি ইঈিত করেন। চিকিৎসালয়ের
বাহিরে কয়েকজন রোগীর হাতে রেজাউলের দেওয়া
ব্যবস্থাপত্র দেখা যায়। তাদের অধিকাংশের হাতেই ‘পাগলের তেল নামের ওষুধের বোতল’ নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী,নাটর,জয়পুরহাট থেকে আসা কয়েকজন রোগী বলেন এর আগেও তাঁরা
ওষুধ নিয়েছেন। কোন উপকার পাননি। কবিরাজ আবার আসতে বলেছেন, তাই শেষবারের মতো
এসেছেন। পাশ্বের্বতি গ্রামের জনৈক আতিক নামের এক ব্যাক্তি বলেন স্থানীয় লোকজন কেউ
কবিরাজের কেরামতি বিশ্বাস করে না। দূরের রোকজন কী শুনে আসে,তা কেবল তারাই জানে।
জাহাঙ্গীর নামের অপর একজন বলেন আমার আট বছরের ছেলের একটা সমস্যা হয়েছিল। আমার
স্ত্রী নিয়ে গিয়েছিল। কোন কাজ হয়নি। পার্শ্ববর্তি সাবাইহাট বাজারে কথা হয় ইমদাদুল
নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি জানান তাঁর বোন (৩৫) একটি সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলেন।
সে কোন উপকার পাইনি। তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুল হক (নাজু)
সাংবাদিদে কে বলেন আমি শুনেছি, কবিরাজ সাধনা করে, বাতাসের উপরে চিকিৎসা দেন। মানুষ
আসে, চিকিৎসাও নেয়। নওগাঁর সিভিলসার্জন আলাউদ্দীন তিনি বলেন, জিন, ভুত, তেলপড়া,পানিপড়া,বলে ডাক্তারি
বিদ্যায় কিছু নেই। তিনি আরও বলেন,চিকিৎসার নামে কেউ এভাবে প্রতারণা করলে অবশ্যই তার
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.jpg)